Story

Bengali Story

love story





 ভুলের পাহাড়

সুমন আঢ্য


প্রায় এক ঘন্টা ধরে লীলা অপেক্ষা করছে আকাশ এর জন্য| আকাশের আসার সময় বিকেল পাঁচটা|এখন ছটা প্রায় বাজবে| লীলা আকাশের জন্য সব করতে পারে| কারণ লীলা আকাশ কে সেই কলেজ টাইম থেকে ভালোবাসে| আকাশ কলেজ এর সিনিয়র হলেও তাঁদের কলেজ এর বন্ধুত্ব আজ ভালোবাসায় পরিণত| প্রায় চার বছর ভালোবাসার পর লীলা আকাশ কে সেই সিনিয়র এর মতোই রেস্পেক্ট করে| প্রায় ছটায় আকাশ এসে শুধু একবার সরি বলতেই লীলা ক্ষমা করে দেয় আকাশ কে| আকাশ বলে ‘ তুমি এতো তাড়াতাড়ি ক্ষমা করেদাও কেন গো? অন্য প্রেমিকা দের দেখেছি তারা কতো কথা শোনাই’| লীলা হেসে ঠিক প্রতি বারের মতো উত্তর দেয় ‘ আমি জানি তোমার কাজ থাকে, নাহলে তুমি কি ইচ্ছে করে করবে? আমি বুঝি তোমায়’|
লীলা খুবই মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে| তার মা মারা যাবার পর তার বাবার এটি ছট্ট জুতোর দোকান চালায়| কিন্তু তার এই অবস্থার কথা সে কখনোই আকাশ কে বুঝতে দেয়নি| কারণ আকাশ অনেক বড়োলোক| তাঁদের নিজেদের কোম্পানি তে আকাশ দেখে| তবে আকাশ ও তার এই টাকার গরম কখনই লীলা কে দেখায়নি| সে প্রমান লীলা অনেক বার পেয়েছে| এই তো কয়েক দিন আগে লীলা ও আকাশ সিনেমা দেখতে যাই| ফেরার পথে একটি এক্সিবিশন এ গিয়ে একটি ছবি দেখে লীলার খুব পছন্দ হয়| লীলা অবশ্য কিছু বলেনি কিন্তু আকাশ বুঝতে পারে| পরেরদিন আকাশ ঠিক সেই রকম ফটো লীলার জন্য নিজে হাতে ড্রয়িং করে নিয়ে আসে| কারণ আকাশ জানে এতো দামি জিনিস লীলা গিফট নেবেনা| তাই সে তার প্রেমিকার পছন্দের গিফট নিজে হাতে সাজিয়ে আনে| এই ঘটনা লীলা কে আরো বেশি বাধ্য করে আকাশ কে ভালোবাসতে|
কিছুদিনে ধরে আকাশ লীলা কে খুব মনমরা দেখছে| জিজ্ঞেস করলে বলে ‘না আমি ঠিক আছি’| আকাশ বোঝেনা কি হয়েছে|একদিন লীলা ও আকাশ পার্কে দেখা করতে যাই| লীলার হটাৎ একটি ফোন আসাতে লীলা চলে যাই| আকাশ বারে বারে জিজ্ঞাসা করলেও সে উত্তর দেয়না| শুধু বলে ‘একটু প্রয়োজন আছে, প্লিজ কিছু মনে করোনা আকাশ’| আকাশ ভাবে পরেরদিন লীলা কে জোর করবে না বললে| কিন্তু পরেরদিন লীলা ঠিক হয়েযায়| এই রকম অনেক ঘটনা ঘটে যা আকাশ বোঝেনা|
একদিন আকাশ রাত্রে ফোন করার সময় আকাশ এর বাড়িতে দেখেনেই| আকাশ এর বাড়ির লোক লীলা কে দেখে খুব পছন্দ করে| লীলার বাবার এই সম্পর্ক জানতো| তার আগে থেকেই এই সম্পর্কে সম্মতি ছিল| অনেক ধুমধাম করে তাঁদের বিয়ে হয়|বিয়েতে কোনো ত্রুটি রাখেনি লীলার বাবা| আকাশ বড়ো পরিবারের হলেও| লীলার বাবাও সেই ভাবেই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন|
লীলা অষ্টমঙ্গলা তে বাড়ি এলে আকাশ বোঝে লীলার পরিবারের অবস্থা ভালো না| সে চায় সাহায্য করতে, কিন্ত তাতে যদি লীলার বাবা খারাপ ভাবে তাই সে কিছু বলে না| এটাই ভাবে যখন ই বিপদে পড়ুক আমি তো আছি| আমি দেখবো এই পরিবার কে| লীলা অষ্টমঙ্গলা সেরে বাড়ি যাবার সময় লীলার বাবা লীলাকে ডাকে| আর বলে ‘ দেখ মা, খুব বড়ো পরিবার, খুব, অনেক নাম অনেক প্রতিপট্টি তোর শশুর বাড়ির, দেখিস কোনো বদনাম যেন না হয়, আর সব সময় জামাই এর মতো হয়ে থাকবি, তার মত চলাফেরা করা শিখতে হবে তো, নাহলে জামাই এর খারাপ লাগবে তোকে নিয়ে বেরোতে’| লীলা ও ঘাঁড় নেড়ে তার বাবার কোথায় সম্মতি দেয়|
তাঁদের বিবাহিত জীবন ভালোই চলছিল, আকাশ এর সমস্ত ইচ্ছে লীলা পুরোন করছিলো| তাঁদের মতো ড্রেস, পার্টি তে গিয়ে হাসি মস্করা সবই, আকাশ তা দেখে অবাক হয়ে পড়ছিলো| লীলা কোথাও না কোথাও নিজেকে হারিয়ে ফেলতে লাগলো| আকাশ লীলার এই পরিবর্তন ঠিক ভাবে নিতে পারছিলো না| কিন্তু লীলাকে খুশি দেখে সে বারে বারে নিজের মনকে বোঝাতে লাগলো| ‘আজ ওকে খুশি করাই আমার কাজ, ও যেমন ভাবে আমার কাছে আসতে চায়, তেমন ভাবেই আমি নিতে রাজি| লীলা প্রায় প্রতিটা দিন তাঁদের ভালোবাসা র সময় এর ফটো উল্টে পাল্টে দেখতে থাকে| আর ভাবতে থাকে ‘আকাশ এর খুশির জন্য আমি নিজেকে পাল্টেছি, আমার এই পরিবর্তন আকাশ কে অনেক খুশি দেয়, আমি এই ভাবেই তার সব ইচ্ছে পূরণ করবো’|
একদিন লীলার বন্ধু বাড়িতে আসে| আকাশ খুব খুশি হয়| কারণ এতদিন তার বন্ধুরা বাড়িতে এসেছে| লীলা তাঁদের রান্না করে খাইয়ে আকাশের নাম অনেক বাড়িয়েছে| আকাশ বলে ‘ মেডাম এবার আমার পালা, আমি তোমার বন্ধু কে রান্না করে খাওয়াবো’| লীলা অনেক বারণ করলেও আকাশ শোনেনা, আকাশ বলল ‘ না, এতদিন আমার বন্ধুদের তুমি খাইয়েছো, এবার আমি তোমার বন্ধু কে রান্না করে খাইবো, তুমি শুধু বন্ধুর সাথে জমিয়ে গল্প করো, আমি এখুনি কিছু একটা বানিয়ে নিয়ে আসছি’| লীলার এতো বারণ করার পর ও আকাশ শুনলো না| কিছু সময় পর আকাশ রান্না করো নিয়ে গেলে দেখে লীলা কাঁদছে, আকাশ জিজ্ঞেস করাই লীলা উত্তর দেয় ‘এই বন্ধুটা সব পুরোনো স্কুল এর কথা বলছে’ খাওয়া দাওয়ার পর| লীলা আকাশ কে বলে একটু বাইরে বেরোলো| আকাশ বাড়িতে একা হঠাত ফোন আসে আকাশের এক বন্ধু সুইসাইড করার চেষ্টা করেছে| আকাশ তাড়াতাড়ি গাড়ি বার করে হসপিটালে যাই| আকাশ গিয়ে দেখে ছেলেটি সুস্থ,| আকাশ জিজ্ঞেস করে কেন সে এমন করলো,| তখন বলে ‘ আমি বাঁচতে চাইনা, আমাকে কেন বাচালি তোরা, আকাশ প্লিজ তুই অন্তত মেরেফেল আমাকে প্লিজ’ বলে কাঁদতে থাকে| আকাশ বারে বারে জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে, অনেক বলার পর সে বলে, ‘আমি আমার wife কে কতটা ভালোবাসি তোরা জানিস, কিন্তু আজ জানতে পারলাম ও আমাকে না অন্য কাউকে ভালোবাসে’ আকাশ অবাক হয়েযায়|কারণ এই বন্ধুর ভালোবাসার কথা গোটা কলেজ জানতো| তারা একে ওপর কে পেতে কি করে নি| আকাশ বলে, ‘তোর কোথাও ভুল হচ্ছে, তোরা তো লাভ ম্যারেজ করেছিস’| ছেলেটি বলে ‘নারে, আমি সব প্রমান পেয়েছি, আমাকে নাবলে কতবার বাড়ি থেকে বেরোতো, বাড়িতে ছেলেটা কে ডেকে এনেও দেখা করতো, রাস্তায় অনেক বার ঘুরতে দেখেছি, কিন্তু আজ সব পরিষ্কার হয়েযায়, তারা বাপের বাড়িতে এক ঘরে’ বলে কাঁদতে থাকে..আকাশ এই সব শুনে খুবই কষ্ট পায়, তবে তার মনে শুধু একটা কোথায় ঘরে, ‘আমার লীলা এমন নই, সে আমাকে অনেক বেশি ভালোবাসে’
বাড়ি ফিরে দেখে লীলা বাড়ি চলে এসেছে|লীলা আকাশ এর পাশে বসে তার কাঁদে মাথা রাখে আর বলল ‘আমার বন্ধুকে তুমি এতো ভালোভাবে আপ্পায়ন করলে, ও খুব খুশি, তারচেয়ে আমি অনেক খুশি, তুমি আমার এতো খেয়াল রাখো, আমি জানতাম ই না, জান ও কি বলছিলো’|আকাশ হঠাৎ লীলাকে থামিয়ে বলে ‘তোমার বন্ধুতো চলে গেছে, এখন ও তার কথা কেন, খিদে পেয়েছে খেতে দাও’| লীলা ভয় পেলো ও খুব খরাপ লাগলো তার, সে বুঝলো সে হয়তো খুবই খারাপ কিছু করেছে| দুদিন পর আকাশ অফিস থেকে ফেরার পথে দেখে লীলা ও তার সেই বন্ধুটি হাতে কিছু জিনিস নিয়ে হেটে যাচ্ছে, রাস্তার জ্যাম এর জন্য আকাশ আর কাছে যেতে পারেনি| বাড়িতে এসে সে লীলা কে কিছু বলার আগেই লীলা বলে ‘জানো আজ আবার সেই বন্ধুর সাথে দেখা, আমি একটু বেরিয়ে ছিলাম, তোমার ফোন এ পেলাম না, তাই তোমাকে এসেই জানালাম,| আকাশ ভাবলো হয়তো সত্যি তার সাথে কিছু কেনাকাটা করতে গেছিলো, কিন্তু আকাশ বারে বারে এটা মনে করতে থাকে তার বন্ধুর সাথে কি হয়েছিলো, তারপর লীলা র দিকে তাকিয়ে মন শান্ত করতো| এই ভাবে প্রায় এক মাস যাই,| আকাশ লীলার মধ্যে কিছু পরিবর্তন খুঁজে পায়| লীলা আর আগের মতো হাসি খুশি নেই| বাড়ির সব কাজের মধ্যেও সে অন্য কোথাও হারিয়ে থাকে, আরে এই দিন দুই সেই আগের মতো ফোন এলেই বেরিয়ে যাই,|
একদিন রাতে আকাশ বাড়ি ফিরে দেখে লীলা শুয়ে আছে| আকাশ খেতে দিতে বলাই লীলা বলে ‘আমি একটু বেরিয়ে ছিলাম, ওখানেই খেয়েনিয়েছি| আকাশ অবাক হয়েযায়, আজ পর্যন্ত লীলা কোনোদিন আকাশ কে ছাড়া খায়না, আকাশ এতবার বললেও সে শুনতো না, সে আকাশের জন্যই অপেক্ষা করতো| আজ এই ঘটনা তাকে অনেক বেশি ভাবিয়ে তলে| খেতে বসে আকাশ এর মা আকাশ কে বলে ‘ হ্যা রে, বৌমার কি কিছু হয়েছে?, কিছুদিন ধরে দেখছি কেমন অন্য ভাবে থাকে, কিছু জিজ্ঞেস করলে বলে কিছুনা, ঠিক আছি, আর প্রায় সেই বন্ধুর সাথে কোথায় যেন বেরিয়ে যাই, তুই কি কিছু বলেছিস’ আকাশ বললো ‘না মা আমি কেন কিছু বলবো? আচ্ছা তুমি যাও আমি দেখছি’| আকাশ রুমে গিয়ে শোয়ার পর লীলা কে জড়িয়ে ধরে |কিন্তু লীলা আজ কোনো সম্পর্কে জড়াতে চাইছিলো না| সে আকাশ কে বলে ‘আজ একটু শরীর টা ভালো নেই গো, আজ থাক, জানি তোমার ইচ্ছে করছে, কোনো দিন তোমায় মানাও করিনি, আজ না থাক, এটা আমার রিকোয়েস্ট, প্লিজ’| আকাশ জোর করে কোনোদিন কিছু নেওয়ার চেষ্টা করেনি লীলার কাছে| সে শুধু বললো ‘তোমার কি কিছু হয়েছে, মা বলছিলো তুমি নাকি সব সময় আনমনা থাকো, বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাও, দেখো আমাকে বলো, আমি তো তোমার হাসব্যান্ড, তোমার সবচেয়ে কাছের মানুষ, তুমি আমাকে কেন বলছনা, আমি চায় সব সময় তুমি হাসিখুশি থাকো, প্লিজ বলো কি হয়েছে?’|লীলা এই কোথা শুনে কিছু খান চুপ থেকে পাস ফিরে শুয়ে বললো ‘না না কিছু হয়নি, তুমি ঘুমিয়ে পড়ো, অফিসে অনেক হয়রান হয়েছ’| আকাশ জোর করলো না, শুধু ভাবলো লীলা সারাজীবন কেন তার কাছ থেকে কিছু লুকিয়ে যাই| সেকি তবে ভালোবাসে না| এই সব ভাবতে ভাবতে আকাশ ঘুমিয়ে পড়ে|
আকাশ ঠিক করে আসল ঘটনা কি জানতে হবে| একদিন সে এই ভাবে বেরিয়ে গেলে তাকে ফলো করে আকাশ| আকাশ দেখে লীলা তার বাড়িতে যাচ্ছে| লীলা বাড়ি তে ঢুকে গেলে আকাশ ও বাড়ির ভিতরে ঢোকে and সেখানে দেখে তার সেই বন্ধু বসে যে বাড়ি এসেছিলো| আকাশ রেগে গেন্না তে মাথা খাড়াপ হয়েযায় আকাশ জোর করে ঘরে ঢুকে তারপর ‘ তোমার মনে এই নোংরা টা ছিল লীলা, আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি এটা তুমি কোনো দিন বোঝোনি, এই বন্ধু কে আমি নিজে রান্না করে বাড়িতে বসে খাইয়ে ছি, আর তুমি তারসাথে, ছি!!’ লীলা বলে ‘ কি তুমি এই ভাবছো আমাকে, আমি আজ পর্যন্ত কোনদিন তোমার মুখের উপর কথা বলিনি, তবে আজ বলছি আকাশ, তোমার চিন্তা ভাবনা এতো নোংরা, তুমি কাকে কি বলছো জানো, আমি তোমার স্ত্রী’ আকাশ: ‘হ্যা তাই তো হাত তুলছি না, আর শোনো তোমার এই ছেলেকে ভালোলাগে তাইনা, তুমি এর সাথেই থাকো, আমি পথের বাধা হবোনা, ডিভোর্স চায় বলতে পারতেই, হাসতে হাসতে দিয়ে দিতেম| বন্ধু টি হঠাৎ বলে ‘দাদা আপনার কোথায় ভুল হচ্ছে আমি আসলে’| ছেলেটিকে থামিয়ে আকাশ বলে ‘you শুটআপ’ বলে বেরিয়ে যাই|
আজ প্রায় এক মাস পেরিয়েছে, লীলা ও আকাশ দুজনেই ডিভোর্স এর পরিকল্পনা তে সম্মতি দিয়েছে| লীলার বাবা লীলা কে ডেকে বললো ‘মা, একবার ওকে বুঝিয়ে বল, দেখ ঠিক বুঝবে, তুই তো কোনো দোষ করিসনি, স্বামী স্ত্রীর মধ্যে এই রকম ঝগড়া হতেই থাকে, তুই ওকে আসল ঘটনাটা বলেদে’| লীলা বলল ‘ বাবা আমি কোনোদিন ওকে ভালোবাসা কম দিইনি, ও যা বলেছে তাই করেছি, ও যেমন ভাবে থাকে, যেমন লোকের সাথে থাকে তেমন থেকেছি তেমন আচরণ পোশাক পড়েছি, আমার ভালো লাগতোনা তাও করেছি শুধু ওর যাতে কোনো সম্মান নষ্ট না হয়, আর তারপর ও আমাকে ঠিক কি অপবাদ টা দিলো আমি নাকি আমার বন্ধুর সাথে, ছি!!, এই রকম অবুঝ বোকা, নির্বোধ মানুষ আমার ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য না’ বলে কাঁদতে কাঁদতে চলে যাই|
আজ তাঁদের ডিভোর্স, লীলা ও তার বাবা গেছেন, আকাশ ও তার বন্ধু ও মাকে নিয়ে কোর্টে উপস্থিত| সমস্ত আইনই কাজ শেষ করে আকাশ সই করেছে| লীলা সই হলেই ডিভোর্স সম্পন্ন হবে| লীলা হাতে পেন নিয়ে সই করতে যাওয়াই হটাৎ ই মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যাই| আকাশ আকাশের বন্ধুরা তাকে নিয়ে হসপিটালে যাই, প্রায় এক ঘন্টা অতিবাহিত হয়েছে, লীলা জ্ঞান ফেরেনি| আকাশ দেখলো লীলার বাবা বসে আছে কাঁদছে| আকাশ লীলার বাবার কাছে গিয়ে বসে কিছু বলতে যাবে তখন ই লীলার বাবা অজ্ঞান হয়েযায়, হসপিটালে তাকেও ভর্তি করা হয়| কিছুক্ষন পর ডাক্তার বেরিয়ে এসে বলেন প্রেসার অনেক কম, হয়তো দুতিন দিন ঠিক ভাবে না খাওয়ার জন্য হয়েছে, আকাশ বুঝলো না, আকাশ আরো একবার ডাক্তার এর কাছে গিয়ে এই বিষয়ে কথা বলতে গেলো| ডাক্তার বলো ‘ উনি খুবই দুর্বল, দুতিন দিন ধরে হয়তো কিছুই খাননি, তারপর ওনার ডায়বেটিস এর ওষুধ ও চলছিল, তাই মাথা ঘুরিয়ে গেছেন, আরো একটি কথা, ওনার মেয়ের ও কিন্তু তাই, উনিও দুতিন দিন ধরে ঠিক ভাবে না খাওয়া দাওয়া করাই এমনটা হয়েছে’| ডাক্তার এর চেম্বার থেকে বেরিয়ে আসতে গিয়ে দেখে সেই বন্ধু হসপিটালে এসেছে| তাকে দেখে আকাশের মাথা গরম হয়েযায়| আকাশ তার কলার ধরে দেওয়ালে ঠেলে দেয়, সেই বন্ধু টি বলে ‘ আপনি আমার গায়ে হাত দিছেন কেন আপনি জানেন এই সব কারণ জন্য হয়েছে? আপনার জন্য| আপনি স্বার্থপর’ আকাশ কিছু বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করে ‘ মানে?’ বন্ধুটি তারপর সব কথা খুলে বলে ‘ লীলা খুবই দরিদ্র বাড়ির মেয়ে, ও বাবা টাকা পয়সা নিয়ে অনেক কষ্ট করতো? কিন্ত এই সব কথা ও কোনোদিন আপনাকে বলেনি কারণ যাতে আপনি না ভাবেন যে আপনার টাকার জন্য ও আপনাকে ভালোবাসে’ আকাশ অবাক হয়েযায় সব শুনে ‘কি বলছো তুমি এইসব’ ‘হ্যা আমি ঠিকই বলছি, আর বিয়ের সময় এতো ধুম ধাম হয়েছে, সেটা লীলার বাড়ি বন্দক রেখে, লীলার বাবা চাইছিলো যাতে আপনার সম্মান নস্ট না হয়, আজ সেই বাড়ির টাকা জোগাড় করতে পারেনি বলে চারিদিকে ছুটছিলো লীলা| আকাশ মাটিতে বসে যাই, ‘কোই এই সব কথা কোনোদিন বলেনিতো?’ ‘হ্যা বলেনি কারণ ও চাইনা আপনার টাকা দিয়ে নিজের বাড়ির কাজ করতে, তাই বিয়ের আগেও মাঝে মাঝে ওর ফ্যামিলি কে ছোটো খাটো কাজ খুঁজে দিতাম, যা লীলা করতো| আর এই বাড়ি ভাড়া খবরটা দিতেই আমি সেদিন আপনার বাড়ি গেছিলাম| আপনাকে দেখে সত্যি মনেহয় যে লীলা ভালো মানুষ কেই পেয়েছে| আমি চিরদিন লীলা কে ভালোবাসতাম, তাই লীলার এই সময় ওর পাশে থাকতে চেটেছি, কিন্তু কোনোদিন ওর এই বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়েনি| আর আপনি, যার কথা লীলা সব সময় বলে আপনি নাকি অনেক ভালোবাসেন| আর আপনি নিজের স্ত্রীর উপর ভরসা রাখতে পারলেন না, ছি’| এই সব শুনে আকাশ কাঁদতে লাগলো| হটাৎ ডাক্তার এসে খবর দেয় লীলা জ্ঞান ফিরেছে| আকাশ ছুট্টে লীলার কাছে যাই, লীলা আকাশের দিকে তাকাই আর মুখ ঘুরিয়ে নেই, তারপর আকাশ বলে ‘ কেন? তুমি কেন করেছো এতো কিছু? তুমি এতো স্বার্থপর কেন? তোমার মনে এতো কষ্ট এতো কিছু তুমি কেন আমাকে বলোনি? আমি কি তোমার কেও না? বিয়ের অনেক বছর আগে থেকে আমাকে চেনো, আমি কখনো তোমাকে টাকার গরম দেখিয়েছি? আমি তোমার হাসব্যান্ড হয়েও কোনোদিন বলিনি তুমি আমার চারিপাশের মতো হও, তোমাকে আমি যেভাবে দেখে এসেছি আমি সেই ভাবেই ভালোবাসি লীলা, আজ কোর্ট এ তোমার সই হয়েগেলে কি হতো বলো? আমি কি করতাম কি নিয়ে থাকতাম?’ বলে আকাশ কাঁদতে কাঁদতে লীলার পাশে বসে| লীলা আকাশের হাতে হাত দিতে বলে ‘আমার ভুল হয়েছে, আমি সব সময় নিজের মতো করে তোমায় ভেবেছি, কোনোদিন জিজ্ঞেস করিনি তুমি কিভাবে খুশি হবে, আমি প্রমিস করছি আর ভুল করবো না| আমাকে ডিভোর্স দিয়োনা| আমি তোমাকে ছাড়া এক দিনও থাকতে পারব না গো’| এই কথা বলার পর আকাশ লীলাকে জড়িয়ে ধরে ও গেটের বাইরে লীলার বাবা ও সুস্থ হয়ে সব কিছু দেখে| আকাশের বাবা লীলার বাবাকে একটা ভালো কাজের বেবস্তা করে দেন| এবং লীলা র বাবাকে বাড়ি বন্দক এর টাকা ধার দেন, যা লীলার বাবার এক বছরে শোধ দিয়ে দেন|
বিয়ে বা ভালোবাসা একটি এমন সম্পর্ক যেখানে যত ছোটই ফাঁক থাকুক না কেন, তা একদিন অনেক বড়ো আঁকার ধারণ করে| তাই ভালোবাসাই ফাঁক, লুকোনো কথা, ভুল বোঝাবুঝি না রেখে শুধু ভালোবাসা রাখুন দেখবেন সেই ভালোবাসাই অনেক বড়ো হবে|