Story
Bengali Story
love story
ওলোট পালট
কলম—সুমনআঢ্য
বন্ধত্ব ঠিক কি হয়, লোকে সেটা বোঝানোর জন্য তাঁদের উদাহরণ দায়| তারা বিগত 12বছরের ও বেশি সময় ধরে একে ওপরের সাথেই সবচেয়ে বেশি সময় কাটাই…তারা কে? তারা আর কেও নই.. জীবন ও বিকাশ| সেই হাই স্কুল থেকে একে ওপরের সাথেই কাটিয়েছে প্রতিটা সময়| তবে তাঁদের বন্ধুত্ব হয় বেশ মজার ঘটনার দারা| হ্যা ঠিকই ধরেছেন| মেয়ে!!! তবে এখানে একজন মেয়ে একটা এতো ভালো বন্ধুত্বের কারণ হবে সেটা কেও জানতো না| না না এতে সেই মেয়েটির ব্যাক্তিগত কোনো সাহায্য ছিলোনা| আসলে, বিকাশ ও জীবন একই স্কুল এ পড়তো| তবে তাঁদের শুধু স্কুল এ পড়া টা এক নই| ক্লাস টুয়েলভে বিকাশ একটি মেয়েকে পছন্দ করে| ঘটনা চক্রে সে ছিলো জীবনের পাড়ার মেয়ে| জীবন ও যে মনে মনে সেই মেয়েটিকেই বসিয়ে রেখেছে!! কে জানে| বিকাশ নিজের মনের কথা যখন মেয়েটিকে বলল.. উত্তরে—‘sorry আমার বয়ফ্রেইন্ড আছে’| এই রিপ্লাই বিকাশ কে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল| মেয়েটির মা জীবন কে খুব বিশ্বাস করতো| তাই জীবন ও মেয়েটি একসাথে স্কুল যেত| এই ভাবেই জীবনের মনেও ভালোবাসা বেঁধেছিল| তবে জীবনও জানতো মেয়েটির বয়ফ্রেইন্ড আছে| দুজনেই সেই বয়ফ্রেইন্ড এর খোঁজ করতে শুরু করলো| তবে তদন্তে বিকাশ ভাবলো জীবন এর সাথে রোজ স্কুল আসে তারমানে জীবন ই সেই বয়ফ্রেন্ড| র জীবন দেখে রোজ বিকাশ মেয়েটির বাড়ি দিকে সন্ধে হলেই ঘুরে বেড়াই| সে নিশ্চিত যে বিকাশ ই সেই ছেলে যে তার ভালোবাসার মাঝে আসছে| দুজনে ঠিক করে দুজনকে রাস্তা থেকে সরাবে| বেশ মেলা মেশা শুরু করে দুজনে| চায়ের দোকান, রাস্তায় ধরে দুজনেই একটি সুযোগের অপেক্ষায় থাকে যে কবে রাস্তার কাঁটা সরাবে| দুজনেই একে ওপরের সাথে খুব ভালো বন্ধুত্বের নাটক করতে থাকে| কিন্তু কেও এটা দেখেনা যে সে সেই মেয়েটিকে ফোন করছে বা কোনো ম্যাসেজ| এই ভাবেই প্রায় উচ্চ মাধ্যমিক দেওয়ার পর তিন জনেই একই কলেজ এ ভর্তি হয়| তবে ততদিনে দুজনের নাটকীয় বন্ধুত্ব বাস্তব এ পরিণত হচ্ছিলো| কলেজ এর অ্যানুয়াল প্রোগ্রাম, জীবন ভাবলো আজ সে মনের কথা বলবেই | বিকাশ তার অনেক ভালো বন্ধু| সে ঠিক সরে যাবে| বিকাশ ও ঠিক করে আজ জীবনকে বলেদেবে যে সে কেন বন্ধুত্ব করেছিল| তবে বিকাশ লজ্জা পাচ্ছিলো এই কথা সামনে বলতে| বিকাশের আর কোনো টান ছিলোনা সেই মেয়েটির উপর| তাই সে ঠিক করে ‘জীবন ছেলেটা ভালো, ও জীবনের সাথে হ্যাপি থাকবে’| জীবন মেয়েটির ফেইসবুক খুলে টাকে প্রপোস করতে যাবে… ঠিক তখন ই সে দেখে মেয়েটির সাথে অন্য একটি ছেলে… তার সাথে লেখা… ‘’4বছরের রিলেসন আজ কমপ্লিট’’.. জীবন হাত থেকে ফোন পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা.. সে একা কমন রুম এ গিয়ে কাঁদতে থাকে| তখন হটাৎ বিকাশ প্রচুর হাসতে হাসতে কমন রম এ আসে..
বিকাশের হাসি কারণ না জেনেই জীবন বলতে থাকে| sorry ভাই| আমার ভুল হয়েগেছে| আমি তোকে এতদিন মিথ্যে সন্দেহ করতাম| একদমই ঠিক আমিও তাই| হঠাৎ দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে থাকে|
বিকাশ:- সন্দেহ মানে??? তুই কেন সন্দেহ করতিস? আমি তো ভাবতাম তোর সাথে তোর সেই পাড়ার মেয়েটির সম্পর্ক আছে??
জীবন:- কি? আমার সাথে? আর আমি ভাবতাম তুই রোজ ওদের বাড়ির সামনে দিয়ে রোজ যেতিস তাই তুই ওর বয়ফ্রেইন্ড|||
বিকাশ কিছুসময় চুপ থেকে… পুরো ঘটনা বুঝতে পারে… জীবন ও মাথায় হাত দিয়ে সমস্ত ঘটনাটা বুঝে যাই… দুজনে প্রচুর হাসতে শুরু করে… সেই ঘটনার পর থেকে তারা সবচেয়ে best ফ্রেন্ড হয়| এমন ফ্রেন্ড যার উদাহরণ সমস্ত বন্ধু রা দেয়| এই ভাবেই কেটে গেছে বেশ কয়েকটা বছর|
এখন তার দুজনে চাকুরে জীবি মানুষ| তবে বন্ধুত্ব সেই আগের মতোই| জীবনের বাড়িতে থাকে তার মা ও এক বোন| বোনের বিয়ের হয়েগেছে| তাই জীবন ও তার মাই থাকে| জীবনের বাবা একজিন আর্মি অফিসার ছিলেন| যুদ্ধে ই তার প্রাণ যাই| তাই বিকাশ ও অনেক স্নেহ করে জীবন কে|
দুজনে ক্লাব এর নানা কাজ এ যোগ দেয়| সে কোনো রক্তদান শিবির হোক| বা স্বাস্থ্য কেন্দ্র| ঠিক এমন ই একটি স্বাস্থকেন্দ্র এর আয়োজন করে ক্লাব থেকে| তাতে দুজনেই হেলথ চেকআপ করানোর জন্য যায়|
বিকাশ:-- ভাই জীবন তুই বিয়ে করে নে..
জীবন:-- কেন রে… তোর ইচ্ছে হচ্ছে বিয়ে করার..
বিকাশ:- ইচ্ছে তো বিয়ে করার নই… তোর বিয়েতে নাচার..
জীবন:- হ্যা সব হবে.. অনেক টাইম আছে
বিকাশ:-হ্যা. আর তখন তুই একেবারে ফিট থাকবি.. তখন আর হেলথ চেক আপ করাতে হবেনা|
জীবন:- কেন বলতো?
বিকাশ:-আরে বৌ এসে ঘরের দায়িত্ব নেবে| কাকিমা কে আর রান্না করতে হবেনা| তোর চিন্তাও থাকবেনা কাকিমা কে নিয়ে| আর সবচেয়ে বড়ো কথা… সেই…
জীবন:-কি সেই?
বিকাশ:-আরে সেই বেপারটা|
হঠাৎ একটি নার্স এসে বিকাশ কে একটি ইনজেকশন দেয়| বিকাশ চিৎকার করে ওঠে|ও জীবন হাসতে থাকে| আর তখন ই জীবন দেখে তার জন্য ইনজেকশন রেডি করছে অন্য একটি নার্স| বিকাশ তাই দেখে হাসতে শুরু করে|
স্বাস্থ কেন্দ্র প্রায় দুদিন পর| বিকাশ ও জীবন ক্লাব এ আড্ডা মারছে ঠিক এমন সময় একটি গাড়ি আসে ও তাতে ক্লাব এ সবার রিপোর্ট থাকে| জীবন রিপোর্ট খুলে দেখে… তখন বলে…দেখ একদম সব ফিট| কিন্তু সে চারিদিকে চেয়ে দেখে বিকাশ নেই| সে সব জায়গায় খুঁজতে থাকে কিন্ত খুঁজে পায়না| সে ফোন করলেও কেটে দায়| জীবন বুঝেউঠতে পারছিলো না… হঠাত কি এমন হলো যে বিকাশ চলে গেলো| 2দিন কোনো খবর পায়না সে| ফোন করলেও ফোন অফ করে রেখেছে বিকাশ| হটাৎ দুদিন পর বাইকে জীবন অফিস থেকে ফেরার সময় দেখে বিকাশ ট্যাক্সি তে চাপছে| জীবন ছুট্টে গিয়ে থামায়|
জীবন:- কিরে কোথায় যাচ্ছিস? ফোন ধরিসনা কেন? কি হয়েছে?
বিকাশ:- কিছু না চার আমার দেরি হয়েযাচ্ছে?
জীবন:-ছেড়ে দেব|কোথায় যাচ্ছিস বল?
বিকাশ:-কোথাও না? তোকে জেনে কি হবে?
জীবন বাইক থেকে নেমে ব্যাগ ধরে টেনে আনতেই দুজনের মধ্যে ছোট্ট ঝগড়া হয় তখনি সেই রিপোর্ট ব্যাগ থেকে পড়ে যায়| আর জীবন সেই রিপোর্ট তুলে পড়তে গেলে বিকাশ তা কেড়ে নেয়|
জীবন:-কি হলো? দে? কি আছে রিপোর্ট এ?
বিকাশ:-কিছু না তুই যা|
জীবন:- আমাদের বন্ধুত্বের দিব্বি দে রিপোর্ট টা তুই!!!!
বিকাশ রিপোর্ট টা বাধ্য হয় জীবন কে দিতে| জীবন রিপোর্ট খুলে দেখতেই মাটি তে বোসে যায়| সে রিপোর্ট অনুযায়ী| বিকাশ এর ক্যান্সার আছে| লাস্ট স্টেজ| বিকাশ কাঁদতে শুরু করে| জীবন উঠে গিয়ে বিকাশ কে এক চর মেরে জিরিয়ে ধরে| দুজনে সেদিন বার এ গিয়ে অনেক নেশা করে| বাড়ি ফেরার সময় একটি ঝিলের ধরে বসে দুজনে ছোটবেলার দিন গুলো| তাঁদের কলেজ এর দিন গুলো মনে করতে থাকে|
বিকাশ:- জীবনে সব ঠিক ছিলো|| আমি চাকরি করি| জানিস বন্ধু| ভেবেছিলাম 2বছর এর মধ্যে বিয়ে টাও করেনিব| তবে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে জানিস| তোর বিয়েটা দেখে যেতে পারবনা|
জীবন:-দেখ বিকাশ এই সব কথা বললে লাথি মেরেছে জলে ফেলে দেব|
বিকাশ:-তাতে কি? এমনি তেও মরবো তেমনি তেও?
জীবন:-চুপ| তুই আমার বিয়েতে নাচতে চাস তাইনা
বিকাশ:-হ্যা একদম? আরে আমার জিগরি দোস্ত এর বিয়ে দেখতে চাইবো না?
জীবন:-ঠিক আছে|আমি বিয়ে করবো| এক সপ্তাহের মধ্যে বিয়ে করবো আমি| তুই খুশি তো?
বিকাশ:-সত্যি?
জীবন:-হম
বিকাশ কে কথা দিয়ে জীবন বাড়িতে সব জানাই| এবং ঠিক তখন ই জীবনের মা তার মর্নিং ওয়ার্ক করা মহিলা সমিতির একটি মহিলার মেয়ের সাথে জীবনের বিয়ের বেবস্তা করে| মেয়েটির নাম শুক্লা| জাতিতে উচ্চ| পড়াশুনো জানা একটি মেয়ে| রূপে রূপসী এমন কুকিং কম্পিটিশন এ চ্যাম্পিয়ন|
কথামতো প্রায় 10দিনের মাথায় সমস্ত বিয়ের আয়োজন হলো| বিকাশ ও সব ভুলে বিয়ের তোড়জোড় করতে বেস্ত হয়ে ওঠে| জীবন এর এক কাসিন ডাক্তার| সে ক্যান্সার স্পেশালিস্ট| জীবন বিয়ের ঠিক পরেরদিন বিকাশ কে নিয়ে সেখানে যায়| রাস্তায় বিকাশ দেখে জীবন এর মুখটা শুকিয়ে গেছে| সে খুবই চুপ চাপ|
বিকাশ- কিরে? কিছু হয়েছে?
জীবন:- নারে কিছু না| চিন্তা করিসনা| সব ঠিক হয়েযাবে|
বিকাশ সমস্ত টেস্ট করার পর বাড়ি ফিরে আসে| জীবন ও অফিস ছিলে যায়| প্রায় এক সপ্তাহ পর বিকাশ জীবনের বাড়িতে যায় জীবন কে ডাকতে| কারণ আজি বিকাশের রিপোর্ট গুলো দেবে যেটা জীবনের কসিন কে দেখিয়েছিলো| বিকাশ জীবনের বাড়ি ঢোকার সময় শুনতে পায় অনেক চিৎকার| সে বাড়ির গেটে র কোনে লুকিয়ে দেখে জীবন ও তার স্ত্রী জগড়া করছে|
স্ত্রী:- তুমি কি ভেবেছো আমি তোমার স্ত্রী? শোনো আমি তোমার স্ত্রী না ok..
জীবন:-মানে? তোমার সাথে আমার বিয়ে হয়েছে তার 15টা দিন হয়নি আর তুমি এমন বলছো?
স্ত্রী:-হ্যা বলছি কারণ তোমাকে আমি আমার স্বামী হিসাবে মানি না|
জীবন:- আচ্ছা ঠিক আছে মানোনা| কিন্তু মা এর সাথে এমন করছো কেন? কাল মা কাঁদছিলো?
স্ত্রী:- বেশ করেছি, ওটা তোমার মা আমার নই?
জীবন:- তুমি আমাকে বিয়ে করলে কেন তাহলে,? আমি তো শুনেছিলাম তুমি হ্যা বলেছিলে?
স্ত্রী:- হ্যা বলেছিলাম কারণ আমি ভেবেছিলাম তুমি শিক্ষিত মানুষ একবার হলেও আমার সাথে কথা বলতে আসবে| কিন্তু তুমি 2দিনে বিয়ে ঠিক করে দিলে| শোনো আমি অন্য একজন কে ভালোবাসি| তাকেই মন থেকে স্বামী মানি| তোমাকে না| বেশি স্বামীর অধিকার দেখাতে এলে যেটুকু সম্মান তোমার মা কে দেখছি সেটাও পাবেনা| বেরিয়ে যাও!!!
জীবন রাগী চোখে বাইরে বেরিয়ে আসার সময় দেখে বিকাশ দাঁড়িয়ে| দুজনে কিছু না বলে কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থাকে| তারপর জীবন মাথা নামিয়ে চোখের জল মোছে| জীবন ও বিকাশ আবার সেই ঝিলের ধরে গিয়ে বসে| হালকা বাতাস অনেক কিছু বললেও কেমন চুপ হয়ে আছে| বিকাশ মনে মনে নিজেকে দোষ দিতে থাকে| অনেক অনেক কষ্ট পেতে থাকে|
বিকাশ:-sorry yr… আমি নিজেকে কোনোদিন ক্ষমা করতে পারবোনা!! আজ যা হচ্ছে সব আমার জন্য আমার এতো খারাপ লাগছে তুই বিস্বাস কর!!!
জীবন:-ছাড় না| তুই তো এটাই দেখতে চেয়েছিলি আমি সেটল হয়েযায়| তোকে এই হ্যাপি নেশ টা দিয়ে আমি খুশি|
বিকাশ:-দুস!!! তোর সাথে সাথে কাকিমার জীবনটাও নষ্ট করলাম| তুই কেন বললি আমার ইচ্ছে পূরণ করবি? নাহয় এমনি মরে যেতাম|
জীবন:-আবার? চল রিপোর্ট টা নিয়ে আসি|
বিকাশ:- হুম যাচ্ছি| তুই ফোন টা রাখ আমি আসছি?
জীবন:-কোথায় যাচ্ছিস?
বিকাশ:-আসছি একটু বড়ো পেয়েছে.. সামনে আছে… বেশিক্ষন না… just 5মিনিট লাগবে|
জীবন:-উফ আমার বাড়িতেই তো করতে পারতিস| যা লাট করবিনা!!!
জীবন ঝিলের ধরে বসে বসে ভাবতে শুরু করে|’পাগল টা ভাবছে, সব তার জন্য|আমার কপাল যেমন তেমন ই তো বৌ পাবো তাইনা’| হটাৎ বিকাশের ফোন এ একটা ফোন আসে.. জীবন রিসিভ করে..
জীবন:-হলো? কে বলছেন?
ফোন:- হ্যা হলো? বিকাশ বাবু বলছেন?
জীবন:-না, আমি ওনার বন্ধু জীবন|আপনি কে বলছেন বলুন|
ফোন:-ও জীবন বাবু!!! আমি হরি দা বলছি,,, হেলথ কেয়ার থেকে|
জীবন:-ও হ্যা হরিদা বলো|
ফোন:- বলছি একটু গোলমাল হয়েগেছে বুঝলে??
জীবন:- কি গোলমাল হলো?
ফোন:- আরে কিছু দিন আগে তোমাদের ক্লাব এ যে স্বাস্থ কেন্দ্র টা হয়, তাতে তোমরা সবাই চেক আপ করিয়েছিলে|
জীবন:- হ্যা তাতে গোলমাল কোথায়?
ফোন:- মানে, হয়েছে কি!!! বিকাশ বাবুর রিপোর্ট টা একটু পাল্টে গেছে|
জীবন:-পাল্টে গেছে মানে? বুঝলাম না হরি দা??
ফোন:- মানে বিকাশ বাবুর নামে যে রিপোর্ট এর কাগজ টা গেছে সেটা বিকাশ বাবুর নই? সেটা তোমাদের পাড়ার পাচু ডাক্তার এর ভাই এর রিপোর্ট| বিকাশ বাবু একদম সুস্থ|
জীবন এর মাথা রেগে পুড়তে শুরু করে| জীবন ভাবতে থাকে যে পৃথিবীতে সবচেয়ে বোকা বানানোর পুরস্কার যেন তার ই পাওয়া উচিত|
ফোন:-হলো,!!! হলো!!! জীবন বাবু!!
জীবন:-- এই হা… কে রিপোর্ট বানিয়েছে? নাম টা বল| আমার জীবন টা শেষ করে দিয়েছে সে| তাকে ছাড়বো না!!! নাম টা বলো হরিদা..
বিকাশ:- আরে তোমার রিপোর্ট তো ঠিকই ছিলো| তোমার রিপোর্ট পাল্টাই নি? তাহলে তোমার জীবন শেষ কি করে….
জীবন:- ওরে… আমার রিপোর্ট নই আমার লাইফ টাই পাল্টে গেছে হারামজাদা!!!
ফোন কেটে দায় তখনই| জীবন ভাবে সেই এবার ঝিলে ঝাঁপ দেবে| এতো বড়ো ইরাকি তার জীবনের সাথে কেন? হঠাৎ জীবনের ফোন এ ফোন আসে| জীবনের কসিন ডাক্তার এর ফোন| কসিন ডাক্তার ও এক কথা বলে| বিকাশ সম্পূর্ণ সুস্থ| তার শরীর এ ক্যান্সার এর কোনো জীবাণু নেই | জীবন সামনে থাকা একটি গাছে মাথা ঠুকতে শুরু করে| তখন বিকাশ আসে| বিকাশ কে দেখে জীবন পায়ের জুতো খুলে বিকাশের দিকে ছুটে যায়| বিকাশ কিছু বুঝতে না পাড়ায় সেও ছুটতে শুরু করে| সেই ঝিলের পাশের একটি পার্ক এই জীবন বিকাশ কে মারতে শুরু করে|
বিকাশ:- আরে মারছিস কেন? কিহলো?
জীবন:- তোকে পুলিশ এ দেবো শালা| বল আমার নাম কি বল?
বিকাশ:- তোর নাম তুই জানিস না? কি হয়েছে কিছু বুঝতে পারছিনা?
জীবন:-চুপ আমার নাম কি বল?
বিকাশ:- তোর নাম জীবন…
জীবন:- হ্যা.. তুই আমার নাম, আর সত্যি আমার জীবন শেষ করেদিয়েছিস… শালা..(..)
কিছু সময় পর জীবন বিকাশ কে তুলে বেঞ্চ এ বসাই.. বিকাশ কে সব কথা খুলে বলে.. বিকাশ প্রচুর হাসতে শুরু করে|
বিকাশ:- হা! হা!! হা!! ভাই এটা জাস্ট ফাটাফাটি হয়েছে| চল এই গল্প টা লেখি| সিনেমা প্রোডিউসার কে শোনালে প্রোডিউসার এক কোথায় হা বলে দেবে| আরে এর চেয়ে ভালো কমেডি story আর হয়না!!! হা!! হা!! ‘জীবন নামের ছেলেরা জীবনে ঘটলো জীবন পাল্টে দেওয়ার ঘটনা’|
জীবন:- প্লিজ চুপ করবি!!! তুই!!
বিকাশ:- আরে শোন না,, সিনেমাটার নাম দেবো… কি দেওয়া যায় বলতো??? হ্যাঁ.. ‘ওলোট পালট’
জীবন:- আরে এই সব ছাড়.. এবার ওই বিদ্রোহী বৌকে নিয়ে কি করা যায় বল??
বিকাশ:- বিদ্রোহ কর!!!
জীবন:- বিকাশ প্লিজ!!! ইয়ার!!
বিকাশ:- ok, sorry!!! হা!! হা!! হা!!
জীবন বসে বসে ভাবতে লাগলো এটা কি হলো তার সাথে| এমন ঘটনা কল্পনা সে কখনোই করেনি সে| ছোটো থেকে সব ছেলেরাই নিজের মনে মনে তাঁদের স্ত্রী একটি ছবি আঁকে.. কিন্তু.. তার জীবনে সব ছবি যে নস্ট হয়েগেছে| তার মা ও কষ্টে আছে| কারণ মেয়েটি তার ই পছন্দ করা| পরেরদিন জীবন অফিস থেকে ছুটি নেয়| বাড়িতে সারাদিন ভাবতে থাকে কি করা যায়| সে ডিভোর্স ও নিতে পারবেনা কারণ তাতে তার মা ও তার পরিবার এর অনেক বদনাম হবে| কিন্তু সে এই ভাবে কাটাতে ও চায়না| জীবনের মা জীবন কে ডাকে| জীবন মায়ের কাছে গিয়ে তার সমাধান চাইবে ঠিক করে|
মা:- আমাকে ক্ষমা করেদে বাবা!!!
জীবন:- কেন মা? এমন কেন বলছো!!
মা:- আমার জন্য তোর এই অবস্থা| আমি এই মেয়েকে পছন্দ করেছিলাম| আর তারপর?
এই বলে জীবনের মা কাঁদতে শুরু করে| জীবন বুঝতে পারে যে সে তার মা কে অনেক কষ্ট দিচ্ছে| তাই সে ঠিক করে এবার এই পরিস্থিতি তাকেই ঠিক করতে হবে| কিন্তু জীবনের মা একটি কোথায় জীবন অবাক হয়েযায়| তার মা বলে শুক্লা, মানে জীবনের স্ত্রী যখন জীবন থাকে তখন ই বেশি ঝগড়া করে জীবন বাড়িতে না থাকলে জীবনের স্ত্রী অতটা কিছু ঝামেলা বা ঝগড়া করেনা জীবনের মা এর সাথে|
পরেরদিন এই সব কথা জীবন বলল বিকাশ কে| বিকাশ এর পরামর্শ মতো দুজনে লুকিয়ে শুক্লার বাড়ি যায়| এবং খোঁজ করার চেষ্টা করে সেই ছেলেটি কে| শুক্লার বাড়ি বেশ সাজানো গোছানো| সেখানে শুক্লার মা বাবা ছাড়া তার এক পিস ততো বোন থাকে| নাম ঝিনুক| ঝিনুকের ব্যবহার এ জীবন ও বিকাশ দুজনেই মুগ্ধ| তবে এটা জানাযায় শুক্লা পড়াশোনা তে অনেক ভালো| তবে তার কোনো বয়ফ্রেইন্ড ছিলো বলে তার বাড়ির লোক জানেনা| খবর টা যদিও তার বোন ঝিনুক দিলো| তবে জীবনের তাতে মনে খটকা লাগলো|
জীবন:- তাহলে ও যে সব সময় বলে আমাকে ছেড়েদাও| আমার বয়ফ্রেইন্ড আছে|
বিকাশ ও জীবন আসে পাশের কিছু মানুষ কে চালাকি করে কিছু জিজ্ঞেস করাই তারা তবে পসিটিভ আনসার ই দিলো| তাঁদের কাছে জানাযায় শুক্লার বয়ফ্রেইন্ড ছিলো| বিকাশ সেই জায়গা থেকে ফেরার সময় ই বলেদায় ‘ডিভোর্স’|
জীবন ও ঠিক করে আর নই এবার তার ও ডিভোর্স চায়| তাই দুজনে বাড়ি ফিরে গেলো ও ঠিক করলো কিভাবে তার মা কে না জানিয়ে ডিভোর্স নেওয়া যায়| জীবন বাড়ি ফিরে দেখে তার স্ত্রী বাড়িতে নেই| তার মা এর কাছে জানতে পারে সে নাকি প্রায় এই ভাবেই বেরিয়ে যায়| জীবন মনে মনে ভাবে এই ভাবে আমি সারাজীবন এমন একজন এর সাথে থাকতে পারবোনা যে বিয়ের পর ও তার বয়ফ্রেইন্ড এর সাথে দেখা করতে লজ্জা পায়না| সে স্থির সিদ্ধান্ত নিলো যেভাবেই হোক ডিভোর্স নিতেই হবে|
বিকাশ ও জীবন বুদ্ধি করে একটি সিধান্ত তে আসে| যে বিকাশের দাদুর বাড়িতে শুক্লা কে আনা হবে| ওখানে ই দুজনের ডিভোর্স হবে| জীবনের মা কে বলা হবে কিছু দিনের জন্য সে বাপের বাড়িতে থাকবে তারপর আসতে আসতে তার মা কে সে সত্যি টা বলবে| বিকাশ একটি গাড়ির বেবস্তা করে| জীবন ও কথা মতো তার মা কে জানিয়ে দিলো সে কিছুদিনের জন্য তার স্ত্রীর সাথে তার বাপেরবাড়ি যাবে| কিছু দিনেই ফিরবে|
বিকাশ:- শোন আমি আসতে পারবোনা তবে দাদুকে বলা আছে| আর আমি গাড়ি পাঠিয়েদেবো কাল সকালে|
জীবন:- আসতে পারবোনা মানে? আমি একা ওই রাক্ষসীর সাথে থাকলে যদি আমাকে মার্ডার করেদেয় তবে?
বিকাশ:- আরে চিন্তা করিস না| পাশেই শ্মশান আছে| আমি লোক দিয়ে তোর শেষ কাজ টা করে দেবো| তুই সাবধানে যাস|
জীবন:- কি বেপার বলতো? কাল শনিবার| পরশু রবিবার| মানে দুদিন তোর অফিস বন্ধ| তাও তুই যেতে চাইছিস না কেন?
বিকাশ:- আরে ওই মেয়েটার সাথে ডেটিং আছে|
জীবন:- মেয়ে? ডেটিং? কোথায় কিছু বলিস নি তো শালা|
বিকাশ:- হা ওই ঝিনুক…
জীবন:- ঝিনুক!!! মানে এই রাক্ষসী তার বোন ঝিনুক????
বিকাশ:- হা ভাই| আসলে সেদিন যখন তোর বৌ এর বাপের বাড়ি গেছিলাম তখন আমি ফোন নম্বর টা নিয়েনি, ভেবেছিলাম পরে প্রয়োজন হবে|
জীবন:- বা!! তো ভালো প্রয়োজনেই তো লাগছো সোনা|
পরেরদিন সকালে সময় মতো গাড়ি চলে আসে| জীবন ও শুক্লা দুজনেই বেরিয়ে পরে| এবং ঐদিকে বিকাশ ও ঝিনুক দুজনে একটি রিসোর্ট এ ডেটিং আর জন্য দেখা করে| রাস্তায় একটি ধাবা তে কিছু টিফিন সেরে জীবন ও শুক্লা বেরিয়ে পরে| বিকাশ ও প্রায় সারাটা দিন ঝিনুকের সাথে বেশ আনন্দে ই কাটাতে থাকে| প্রায় দুপুর. 2.30নাগাদ একটি জঙ্গল এর পাশের বাথরুম করার জন্য জীবনের গাড়ির ড্রাইভার দাঁড়ায়| ঠিক তখন ই তার ফোন আসে|
ড্রাইভার:- হলো? হা বলছি!!! কি?? এখুনি!! আমি রাস্তায়!! একটু আউট অফ টাউন এসেছি!! না না না!!! ঠিক আছে আমি আসছি!!!
জীবন বুঝতে পারে কিছু গোলমাল হয়েছে? তবে সে ভাবে তার জীবনে এতো গোলমাল তারচেয়ে বড়ো আর কি আছে!!
জীবন গাড়ি থেকে নেমে জিজ্ঞেস করে:- কি হলো দাদা চলুন???
ড্রাইভার:- সরি দাদা আমাকে এখুনি বাড়ি যেতে হবে আমার স্ত্রী বাচ্ছা হবে! হসপিটালে ভর্তি খুব খারাপ অবস্তা!!! আপনি একটু নিজেই ড্রাইভ করেনিন প্লিজ!!!
জীবন:-- মানে?? আমি ড্রাইভ জানলে আপনাকে কেন ডাকবো?? আর এই ভাবে জঙ্গল এর মাঝে আপনি ফেলে চলে যাবেন| আপনি পাগল??
ড্রাইভার কিছু না বলে সামনে থেকে আসা একটি বাস ধরে চলে গেলো!!!
জীবন:- আরে!!! শুনুন!! আমাদের কি হবে!!!
শুক্লা কিছু বুঝতে পারছে না ঠিক কি হয়েছে!!!
শুক্লা:- কি হলো!!! আর কতো দেরি?? ড্রাইভার কোথায়!!!
জীবন:- পালিয়েছে!!! তুমি ড্রাইভ জানো??? তুমি জানবে চলো চালাও!!!
শুক্লা:- পাগল নাকি!!! আমি জানিনা এই সব!!!
জীবন এর মাথায় হাত| এই ঘন জঙ্গল এ সে কি করবে| জীবন তখন ই বিকাশ কে ফোন করে| বিকাশ সারাটা দিন পর একটু সময় পেয়েছে ঝিনুকের সাথে সময় কাটানোর| বিকাশ ঝিনুক কে প্রপোস করবে ঠিক করে| হাটু গেড়ে বসে পকেটে হাত দায় ঝিনুকের জন্য আনা রিং বারকরার জন্য, ঠিক তখন ই জীবন এর ফোন আসে| বিকাশ পকেট থেকে রিং বারকরতে গিয়ে ফোন বারকরে|
জীবন:- কিবে!!! বোকা… কি…. এর গাড়ি পাঠিয়েছিস!!! ড্রাইভার গাড়ি ছেড়ে বাসে করে পালিয়েছে???
বিকাশ পুরো ঘটনাটা ভালো করে শুনলো| ঠিক তখন ই উইক সিগন্যাল এর জন্য ফোন কেটে যায়| বিকাশ ও জীবন দুজনেই অনেক বার ট্রাই করে কিন্তু ফোন লাগেনা| বিকাশ ড্রাইভার কে ফোন করলে ড্রাইভার এর মা ফোন ধরে, ও বলে আজ তার বৌমার ডেলিভারি তাই সে হসপিটালে গেছে| অগত্যা বিকাশ কে ডেটিং ছেড়ে সেই হসপিটালে আসতে হয় জীবনের লোকেশন জানতে| কিন্তু জীবন কি করবে সেটা সে ভেবে পাঁচিল না| সঙ্গে রাক্ষসী মহিলার ভয় তারপর আবার বিকাল হয়ে এলো| ছোটবেলার একবার গাড়ি চালানো সে শিখেছিলো, তাই সে একবার চেশটা করলো গাড়ি নিয়ে আসতে আসতে সে পৌঁছে যাবে| এইদিকে তার স্ত্রী চিৎকার শুরু করে| জীবন কিছু না ভেবেই ড্রাইভিং সিট্ এ এসে বসে| ও কিছু খান গাড়ি চালায়|1ঘন্টায় প্রায় অর্ধেক কিলোমিটার যায়| কিন্তু সামনে একটি গাড়ি আসার ভয়ে সে গাড়ি নিয়ে গিয়ে জঙ্গল এ একটি গাছে গিয়ে ধাক্কা মানে ও গাড়ি অনেকটা ক্ষতি হয়|
শুক্লা:- হা!!! হা!! হা!! কাকে দিয়েছে গাড়ি চালাতে!!!
জীবন:- ওই শোনো!!!
শুক্লা:- তুমি শোনো!!! এখন বিকেল হয়ে আসছে| একটু পরে সন্ধে হবে| জানতো জঙ্গল এ সন্ধের সময় কি হবে???
জীবন:- ঠিক আছে!! ঠিক আছে!! তুমি ভয় পাওনা আমি আছি!!!
শুক্লা:- আমি কেন ভয় পাব?? আমার সব রেসপনসিবিলিটি তোমার তাই না| আমার ভয় চিন্তা কিছু নেই||
জীবন মনে মনে ভাবছিলো তার নাম কেন জীবন রাখা হলো?? তার তো জীবন তাই একটা হাসির সিনেমা হয়েগেছে| চারিদিকে চেয়ে দেখে জীবন| দূরে আদিবাসী দের একটি বস্তি দেখাযায়| জীবন ওই দিকে গেলো||
শুক্লা:- কি হলো কোথায় যাচ্ছ???
জীবন:- আমাকে রেসপনসিবিলিটি দিয়েছো না| চুপ চাপ আমার সাথে এসো|
শুক্লা ও জীবন সেই আদিবাসী বস্তি তে যায়| তাঁদের দূর থেকে তাঁদের ভাঙা গাড়ি দেখায়| আদিবাসী রা দুজন কে সেই রাতে থাকতে দায় কথা দায় পরেরদিন তাঁদের ঠিক বাস পাবার রাস্তায় পৌঁছে দেবে| দুজনে সেই রাত তাঁদের সাথেই কাটাবার সিধান্ত নেয়| রাত প্রায় 8টা.. বিকাশ ও ঝিনুকে দুজনে সেই হসপিটালে গিয়ে সেই ড্রাইভার কে খুঁজে চলে| তারা জীবন এর মা কে কিছু জানায় না| সেই ড্রাইভার তবে জানিয়ে দায়| রাতে তার স্ত্রী কে বেড এ দেবে| কাল সকাল এ সে নিজে সেই জায়গা তে যাবে|
জীবন ও শুক্লা একটু দূরে বসে আছে| হঠাৎ জীবন দেখলো শুক্লা তার হ্যান্ডব্যাগ থেকে কিছু করতে বার করে খাচ্ছে| তবে টা ঠিক কি সেটা সে বুঝতে পারেনা| একটি স্বামী স্ত্রীর বাড়িতে জীবন ও শুক্লার থাকার বেবস্তা হয়েছে| শুক্লা দেখে সেই স্ত্রী তার স্বামী খেতে পাচ্ছেনা তাই খাইয়ে দিছে| তখন সে জীবন এর দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে মাথা নামিয়ে দায়| জীবন ও কিছু সময় পর লক্ষ করে সেই স্বামী তার স্ত্রী খাবে তাই তার খাবার বেবস্তা করে দায়| জীবন মনে মনে ভাবে…
জীবন:- এমন স্ত্রী হলে সব স্বামী রাই সেবা করবে| এর আমার বউটা একদিন এখানে থাকুক তখন এরাও বুঝবে কি জিনিস|
পরেরদিন সকালে কথা মতো একজন আদিবাসী তাঁদের বাস ধরার রাস্তা দেখিয়ে দায়| তারপর সে চলে যায়| দূরে একটি বাস দেখতে পেয়ে তারা দুজনেই দৌড়ে যেতে গিয়ে শুক্লার পায়ে কাঁটা লাগে| জীবন ছুটে এসে সেই কাঁটা বার করে দায়| তারপর কিছু সময় শুক্লা জীবন এর কাঁদে ভর দিয়ে হাঁটতে থাকে| জীবন প্রথম বার অন্য রকম অনুভব করে| বিয়ের অনেক দিন পেরিয়েছে, তবে দুজনে এতো কাছে কোনো দিন হয়নি| শুক্লা ও কিছু বলছে না| দুজনে ওই ভাবে কিছু সময় হাঁটার পর হঠাৎ রাস্তায় কাছে এসে জীবন এর ফোন আসে| জীবন দেখে বিকাশ এর ফোন| বিকাশ জীবন এর লোকেশন ঠিক ভাবে জেনে নিয়ে গাড়ি নিয়ে যায়| শুক্লা গাড়ি তে উঠতে পারছিলো না| জীবন শুক্লা কে কোলে তুলে গাড়িতে বসিয়ে দায়… ঠিক তখন শুক্লা র হ্যান্ডব্যাগ জীবন এর কাছে থেকে যায়| দুজনে গাড়িতে কোনো কথা বলেনা|শুধু গাড়ির আয়নাতে দুজন দুজন কে দেখে যায়|
দাদুর বাড়ি এর যাওয়ার হলো না| তবে জীবন ডিভোর্স এর পেপার রেডি করার জন্য কোর্ট এ যায়| বিকাশ ও জীবন কোর্ট এর বাইরে চা খেতে খেতে হঠাৎ দেখে শুক্লা হেটে কোথাও যাচ্ছে| বিকাশ এর পরামশ্রে জীবন ও বিকাশ দুজনেই শুক্লা কে পিছু নিতে থাকে| তারা দেখে শুক্লা একটি ওষুধ দুকানে ঢুকে কিছু ওষুধ কিনলো!!
জীবন ও বিকাশ দুজনে ঠিক বুঝতে পারেনা যে আসলে কি ঘটছে| তারা ভেবেছিল আজ তারা শুক্লার বয়ফ্রেইন্ড কে ধরবে| কিন্তু সেই ছোটো বেলার মতো আজ ও তারা পারলো না| জীবন, শুক্লা চলে যাবার পর সেই ওষুধ দোকানে গিয়ে জিজ্ঞেস করে যে সে কিসের ওষুধ নিয়ে গেলো| তাঁদের কাছে পাওয়া কথা শুনে জীবন ও বিকাশের মাথা ঘুরে গেলো| জঙ্গল থেকে ফেরার সময় জীবনের কাছে শুক্লার হ্যান্ড ব্যাগ ছিলো| জীবন লুকিয়ে গাড়িতেই সেই ব্যাগ খুলে সেই ছেলেটির ফটো খোঁজার চেস্ট করে| তবে ফটো না পেলেও কিছু ওষুধ পেয়েছিলো| জীবন সেই ওষুধ এর ফটো দেখালো| এবং জানলো শুক্লা এতদিন ক্যান্সার এর ওষুধ কিনতো এবং খেত| কিন্তু সে কথা কেন এতদিন সে জানায়নি|
জীবন তখন ই গাড়ি ধরে বাড়ি চলে যায়| বাড়ি গিয়ে শুক্লা সামনে গিয়ে দাঁড়ায়| শুক্লা কে সব কথা বললেও শুক্লা শিকার করেনা কিছু| অনেক জোর দেওয়ার পর শুক্লা বলে…
শুক্লা:- আমি তোমাকে অনেক আগে থেকেই চিনি| আমি খুব ছোটো বেলা থেকেই তোমাকে ভালোবাসি| আমার বিয়ের কথা হলে আমি সেটা না করেদি তাম কারণ আমি তোমাকে হাসব্যান্ড হিসাবে পেতে চেয়েছি| আমাদের পাড়ার হেলথ চেকআপ এ তোমার বন্ধু যার রিপোর্ট আসে সে এর কেও নই আমি|
জীবন:- তুমি?? কিন্তু ওখানে তো কোনো বয়স্ক মানুষ এর নাম আছে বলে বলছিলো হরিদা?
শুক্লা:- আমি লুকিয়ে লুকিয়ে একবার সিগারেট খেয়েছিলাম| তবে একবার ই| আমার ভয় করছিলো| যদি রিপোর্ট এ সেই কথা চলে আসে| তাই পাড়ার বিল্টু ডাকে বলে নাম টা ওই বুড়োর নামে করেছিলাম| কিন্তু সেই বুড়ো দুদিন পর মারা যায়| এর রিপোর্ট টা ক্লাব এই পরে থাকে| বিল্টু দা আমাকে ডেকে আমার হাতে দায়| বাড়ি এসে মা আমাকে বিয়ের কথা বলে| আমি অনেক বারণ করি তাও তারা মানতে চায়না| আমি এই রোগ এর কথা বাবার মা কে জানাতে পারিনি| তারা কষ্ট পাবে| কিন্তু ভেবেছিলাম আপনি একবার হলেও আমার সাথে কথা বলবেন| কিন্তু তাও আসেন নি|
বলে কাঁদতে শুরু করে শুক্লা| জীবন বুঝতে পারে সমস্ত ঘটনা| জীবন শুক্লার পাশের গিয়ে বসে|
জীবন:- তুমি বললে আমাকে ভালোবাস, আমাকে বিয়ে করতে চাও| তাহলে বিয়ের পর এই রকম ব্যবহার কেন করছিলে|
শুক্লা:- আমি চায়না তুমি এমন একজন অসুস্থ স্ত্রী পাও|তুমি খুবই ভালো| আমি কি করে তোমার জীবন নষ্ট করবো| তাই তোমাকে দিয়ে ডিভোর্স নিয়ে বাকি জীবন টা তোমাকে খুশি করতে চায় ছিলাম|
জীবন সব বুঝতে পারে| সে ভাবে সত্যি সে অনেক বেশি ভাগ্যকরেছে| যে এমন স্ত্রী পেয়েছে| জীবন শুক্লার চোখের জল মুছে দায় ও তাকে ভালোবাসায় জড়িয়ে ধরে|
জীবনের সেই ডাক্তার আঙ্কেল এর কাছে শুক্লার ট্রিটমেন্ট শুরু হয়| তারপর শুক্লা অনেকটাই সুস্থ| আজ তাঁদের বিয়ের প্রায় 3বছর পেরিয়ে গেছে| জীবন ও শুক্লা আজ অনেক সুন্দর করে সেজেছে| এবং তাঁদের ছেলে যীশু কে ও বেশ ভালো করে সাজিয়েছে| তবে আজ কি?? কোনো অনুষ্ঠান?? হা নিশ্চই!!! আজ বিকাশ ও ঝিনুকের বিয়ে| তাই জীবন ও বিকাশের বিয়েতে নাচার জন্য একদম প্রস্তুত| আপনি ও আমন্ত্রিত| আসছেন তো?...

0 মন্তব্যসমূহ